← মেগা টুলস হোম · ব্লগ

বাংলা OCR-এ সঠিক ফল পাওয়ার ৬টি কার্যকর উপায়

ছবি বা স্ক্যান করা পাতা থেকে বাংলা লেখা তোলার সময় ভুল হওয়া খুব সাধারণ সমস্যা। ছোট কয়েকটি অভ্যাসে ফল অনেক ভালো হয়।

১. ছবির মান ঠিক রাখুন

কমপক্ষে ৩০০ DPI-এ স্ক্যান করুন। মোবাইল ক্যামেরায় তুললে ফোন সোজা ধরুন, যাতে পাতা তির্যক না হয়।

২. আলো ও ছায়া

পাতার ওপর ছায়া পড়লে অক্ষর ঝাপসা হয়। জানালার পাশের সমান আলোয় তুলুন এবং ফ্ল্যাশ এড়িয়ে চলুন।

৩. সঠিক ভাষা বাছুন

বাংলা ও ইংরেজি মেশানো লেখায় দুটি ভাষাই নির্বাচন করুন। শুধু বাংলা বেছে নিলে ইংরেজি শব্দ ভুল আসতে পারে।

৪. ছবি ক্রপ ও পরিষ্কার করুন

মার্জিনের কালো দাগ ও অপ্রয়োজনীয় অংশ কেটে দিন। ম্যাজিক স্ক্যানার টুল ব্যবহার করলে পাতা সাদাকালো ও স্পষ্ট হয়।

৫. যুক্তাক্ষর মিলিয়ে নিন

ক্ষ, জ্ঞ, ন্ত ও রেফযুক্ত শব্দে ভুল বেশি হয়। ফল কপি করার পরই এসব শব্দ খুঁজে মিলিয়ে নিন।

৬. পরে বানান যাচাই করুন

OCR-এর পর বানান ও গ্রামার চেক টুলে একবার চালিয়ে নিন। এতে বাকি ছোট ভুলগুলো সহজে ধরা পড়ে।

OCR আসলে কীভাবে কাজ করে

OCR মানে Optical Character Recognition, অর্থাৎ ছবির ভেতরের অক্ষর চিনে সেটিকে সম্পাদনাযোগ্য টেক্সটে রূপ দেওয়া। প্রোগ্রামটি প্রথমে ছবিকে সাদাকালো করে, তারপর লাইন ও শব্দ আলাদা করে, শেষে প্রতিটি আকৃতিকে পরিচিত অক্ষরের সঙ্গে মেলায়। ইংরেজিতে অক্ষর আলাদা আলাদা থাকে বলে কাজটা সহজ। বাংলায় সমস্যা হলো মাত্রা, কার-চিহ্ন, ফলা ও যুক্তাক্ষর একে অপরের সঙ্গে জুড়ে থাকে। এই কারণেই বাংলা OCR-এ ছবির মান বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

কোন ধরনের লেখায় ফল ভালো, কোনটায় খারাপ

ছাপা বই, সংবাদপত্র, সরকারি প্রজ্ঞাপন ও টাইপ করা চিঠিতে ফল সাধারণত ভালো আসে, কারণ অক্ষরের আকৃতি সমান। হাতের লেখা, অতি ছোট ফন্ট, ফটোকপির ফটোকপি এবং অলংকৃত ডিজাইন ফন্টে ভুল অনেক বাড়ে। পুরনো কাগজে হলুদ ছোপ থাকলে লেখা ও পটভূমির পার্থক্য কমে যায়, ফলে প্রোগ্রাম অক্ষর হারায়। তাই কাজ শুরুর আগে নিজের নথি কোন দলে পড়ে তা বুঝে নিলে প্রত্যাশা ঠিক রাখা যায়।

মোবাইল দিয়ে স্ক্যান করার সঠিক পদ্ধতি

প্রথমে পাতাটি সমতল টেবিলে রাখুন; বইয়ের ভাঁজের কাছে লেখা বেঁকে যায়, তাই সম্ভব হলে বইয়ের পাতা চেপে সমান করুন। ফোনটি পাতার ঠিক ওপরে সমান্তরালে ধরুন, কোণ করে নয়। ক্যামেরার গ্রিড চালু রাখলে সোজা ধরা সহজ হয়। ছবি তোলার আগে লেন্স মুছে নিন এবং ফোকাস ঠিক হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। একসঙ্গে পুরো পাতা না এনে দুই ভাগে তুললে প্রতিটি অক্ষর বড় ও স্পষ্ট আসে, যদিও তাতে পরে দুটি ফল জোড়া দিতে হয়।

আগে থেকে ছবি পরিষ্কার করার কৌশল

ছবি তোলার পর সরাসরি OCR না চালিয়ে ম্যাজিক স্ক্যানারে পাতার কোণ ঠিক করে নিন। এতে তির্যক পাতা সোজা হয়, ছায়া কমে এবং কাগজ সাদা ও লেখা কালো হয়ে ওঠে। কনট্রাস্ট খুব বেশি বাড়ালে সরু রেখা, যেমন মাত্রা ও ফলা, মুছে যেতে পারে, তাই মাঝারি মাত্রায় থামুন। ছবির মাপও লক্ষ্য রাখুন: খুব ছোট ছবি বড় করলে ঝাপসা হয়, আর অতি বিশাল ছবি প্রসেস হতে বেশি সময় নেয়। সাধারণত দুই থেকে চার মেগাপিক্সেল পরিমাপই যথেষ্ট।

ফল সম্পাদনা ও যাচাই করার নিয়ম

OCR-এর ফলকে চূড়ান্ত না ভেবে খসড়া ধরুন। মূল ছবির পাশে ফল খুলে অনুচ্ছেদ ধরে ধরে মিলিয়ে নিন। সংখ্যা, তারিখ, নাম ও ঠিকানায় ভুল সবচেয়ে ক্ষতিকর, তাই এগুলো আলাদা করে দেখুন। বাংলা সংখ্যা ও ইংরেজি সংখ্যা গুলিয়ে গেলে একবার খুঁজে-বদলে ঠিক করে নিন। এরপর বানান যাচাই টুল চালালে বাকি ছোট ভুল ধরা পড়ে। অবশেষে টেক্সটকে Word বা অন্য ফরম্যাটে সংরক্ষণ করুন।

পিডিএফ ও একাধিক পাতার ক্ষেত্রে করণীয়

স্ক্যান করা পিডিএফে অনেক পাতা থাকলে সব একসঙ্গে না চালিয়ে পাঁচ-দশ পাতার ভাগে ভাগ করুন। এতে ব্রাউজার ধীর হয় না এবং কোনো পাতায় সমস্যা হলে শুধু সেটি আবার করতে হয়। পাতা ভাগ করতে PDF স্প্লিট টুল কাজে লাগে। প্রতিটি অংশের ফল আলাদা ফাইলে রেখে শেষে একটি নথিতে জুড়লে পাতার ক্রম ঠিক থাকে। নথির নাম পাতার ক্রম অনুযায়ী রাখলে ভুল হওয়ার ঝুঁকি কমে।

গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা

জন্মনিবন্ধন, পরিচয়পত্র বা ব্যাংকের কাগজ স্ক্যান করলে সেগুলো কোথায় প্রসেস হচ্ছে তা জানা জরুরি। মেগা টুলসের OCR আপনার ব্রাউজারে চলে, তাই ফাইল সার্ভারে যায় না। তবু পাবলিক কম্পিউটারে কাজ করলে শেষে ব্রাউজারের ক্যাশ ও ডাউনলোড মুছে ফেলুন।

সংক্ষেপে কাজের তালিকা

ছবি ৩০০ DPI-তে তুলুন, আলো সমান রাখুন, কোণ সোজা করুন, ভাষা ঠিকভাবে বাছুন, ফল মিলিয়ে নিন এবং শেষে বানান যাচাই করুন। এই ছয়টি অভ্যাস মানলে হাতে-টাইপ করার সময় বাঁচবে এবং ভুলও অনেক কমবে।

এই টুলগুলো সরাসরি ব্যবহার করতে মেগা টুলস-এ যান।